যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে গভীর অসন্তুষ্টি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রাহিমী জাহানাবাদী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুদ্ধ একদিন শেষ হবে ঠিকই, তবে এই সংকটের সময়ে কোন দেশের নেতারা ইরানের সাথে কেমন আচরণ করেছেন, তা ভবিষ্যতে ইরান অবশ্যই মনে রাখবে।
রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদী জানান, ইরান সরাসরি আগ্রাসনের শিকার হওয়ার পর বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে তারা বাংলাদেশের কাছ থেকে নিন্দা বা সহানুভূতির বার্তা আশা করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, খোদ আমেরিকার ভেতরেই এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে এবং সেখানকার নাগরিকরা পর্যন্ত স্কুলে শিশুদের ওপর হামলার মতো ঘটনার প্রতিবাদ করছেন। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নীরবতা ইরানের কাছে অপ্রত্যাশিত।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র জামায়াতে ইসলামীর আমির তাকে ফোন করে সহমর্মিতা জানিয়েছেন। তিনি ইরানের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন এবং আমেরিকান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সহানুভূতি পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্যে দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, বন্ধুত্বের খাতিরে এবং আন্তর্জাতিক নীতি মেনে বাংলাদেশ অন্তত এই আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানাতে পারত। তার এই মন্তব্য বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য এক বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।







