ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে এস আলম গ্রুপের সহযোগী হিসেবে পরিচিত বিতর্কিত ও চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের পুনরায় ব্যাংকে ফেরানোর সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। সারা দেশের গ্রাহকদের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, যদি ব্যাংক লুটের সহযোগীদের স্বপদে পুনর্বহাল করা হয়, তবে তারা একযোগে আমানত তুলে নিয়ে ব্যাংক বর্জনের ডাক দেবেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ, এস আলম গ্রুপ গত কয়েক বছরে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ব্যাংকটি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট করেছে। এই অপকর্মে ব্যাংকেরই কিছু অসাধু কর্মকর্তা সরাসরি সহায়তা করেছেন, যাদের অধিকাংশকেই পরবর্তীতে অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। এখন একটি বিশেষ মহলের মদদে সেই বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনরায় স্বপদে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় আমানতকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ গ্রাহকরা জড়ো হয়ে এস আলম পন্থীদের অতীত কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানান। তারা উল্লেখ করেন, ব্যাংকের প্রকৃত মালিক ও বিনিয়োগকারীদের সরিয়ে ‘পটিয়া বাহিনী’র মাধ্যমে ব্যাংকটি দখল করা হয়েছিল। তৎকালীন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়ে ব্যাংকটিকে দেউলিয়ার পথে ঠেলে দেওয়া হয়। সেই কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন করা মানেই ব্যাংকটিকে পুনরায় ঝুঁকির মুখে ফেলা।
বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা জানিয়েছেন, তারা কষ্টার্জিত অর্থ এই ব্যাংকে রেখেছেন নিরাপত্তার আশায়, কিন্তু লুটেরাদের সহযোগীদের হাতে ব্যাংকের চাবিকাঠি ফিরে গেলে সেই নিরাপত্তার আর কোনো নিশ্চয়তা থাকবে না। তাই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, তবে সাধারণ মানুষ গণহারে টাকা তুলে নিতে বাধ্য হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাতে নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।







