ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান এবং ডাকসু ভিপি ও ছাত্রশিবির নেতা সাদিক কায়েমের মধ্যে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে তীব্র তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। ‘আবারও কি উল্টো পথে রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে দুই ছাত্রনেতা পারস্পরিক অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, উপস্থাপককে বারবার হস্তক্ষপ করে তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করতে হয়।
সাদিক কায়েম আলোচনায় অভিযোগ করেন যে, ছাত্রদলের কাছে ‘প্রকাশ্য রাজনীতি’ মানেই হলো বহিরাগতদের এনে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা ও দখলদারিত্ব চালানো। তিনি কুয়েট ও ঢাকা পলিটেকনিকের সাম্প্রতিক সহিংসতাকে উদাহরণ হিসেবে টেনে বলেন, ছাত্রদল হলে ২০০৫-০৬ সেশনের অছাত্রদের পুনর্বাসন করছে। পাল্টা জবাবে আবিদ তাকে ‘গুজববাজ’ এবং ‘কবিতার মতো মিথ্যা বলায় পটু’ বলে আখ্যা দিলে সাদিক কায়েম শালীনতা বজায় রাখার অনুরোধ জানান।
অন্যদিকে, আবিদুল ইসলাম খান দাবি করেন যে, ৫ আগস্টের পর থেকে ‘ঢাবি কণ্ঠস্বর’ বা ‘ডেইলি ডাকসু’র মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপতথ্য ও ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানো হচ্ছে। তিনি লোহাগাড়ার এক নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে তাঁর সঙ্গে সাদিক কায়েমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। আবিদ আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর থেকেই শিবির ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ পরিচয়ে হলে আধিপত্য বিস্তার করেছে এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হলে ঢুকতে বাধা দিয়েছে।
টকশোর এই বিতর্কে ছাত্রদলের নেতা দাবি করেন, শিবির ছায়া প্রশাসন হিসেবে কাজ করে ছাত্রদলের সমাজসেবা সম্পাদকসহ অনেককে হল থেকে বের করে দিয়েছে। জবাবে সাদিক কায়েম বলেন, তাঁরা চান নিয়মিত শিক্ষার্থীরাই হলে থাকুক, কোনো অছাত্র নয়। দুই নেতার এই বাকযুদ্ধ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও শিবিরের বর্তমান স্নায়ুযুদ্ধ ও উত্তেজনারই প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।







