বাংলাদেশে রাজস্ব আয়ে রেকর্ড ১ লাখ কোটি টাকার বিশাল ঘাটতির মুখে পড়েছে বর্তমান সরকার। এই আর্থিক সংকট কাটাতে গিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার, যা বাজেটীয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ১০৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে একটি বড় অংশ সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে ঋণ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ধার নিলে তাকে ‘মানি ক্রিয়েশন’ বা নতুন টাকা তৈরি বলা হয়। চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রায় ২৩ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা ছাপিয়ে ঋণ দেওয়া হয়েছে। মার্চ মাসেই ২০ হাজার কোটি টাকা নতুন করে বাজারে ছাড়া হয়েছে। এই নতুন ছাপানো টাকা বাজারে ‘মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট’ তৈরি করে সরবরাহ ৫ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়, যা উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বাজেট ঘাটতি মেটাতে গিয়ে ব্যাংক থেকে সরকারের এই অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সরকারকে ঋণ দিতে গিয়ে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংকটে পড়ছে। ফলে দেশের শিল্পায়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের গতি ধীর হয়ে পড়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) এর মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে টাকা ছাপিয়ে খরচ মেটানোর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে। বাজারে টাকার জোগান কৃত্রিমভাবে বাড়লে পণ্যের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার মান কমে যায়। আর্থিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে আইএমএফ-এর শর্তের বাইরেও নিজেদের তাগিদে ব্যাংকিং খাতে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।







