পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আজ মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম। পারমাণবিক চুল্লিতে এই ইউরেনিয়াম সরবরাহের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর অভিজাত তালিকায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের নাম লেখাল। বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণে এটি দেশের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক।
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, রূপপুরের প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে তেজস্ক্রিয় বিক্রিয়ার জন্য মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম বান্ডেল প্রয়োজন হবে। প্রতিটি বান্ডেলে ১৫টি করে ইউরেনিয়াম প্লেটসমৃদ্ধ রড রয়েছে। উল্লেখ্য যে, দুই বছর আগেই পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১৬৮টি বান্ডেল সংগ্রহ করে রাখা হয়েছিল, যার মধ্যে ৫টি সংরক্ষিত থাকবে।
চুল্লিতে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি স্থাপন সম্পন্ন করতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর শুরু হবে নিউক্লিয়ার ফিউশন বা কেন্দ্রীন সংযোজন প্রক্রিয়া। এই বিক্রিয়ায় উৎপন্ন তীব্র তাপে পানি বাষ্পে পরিণত হবে এবং সেই বাষ্পের চাপে টারবাইন ঘুরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। প্রথাগত জ্বালানি যেমন তেল, গ্যাস বা কয়লার অনিশ্চয়তা থেকে এই কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ মুক্ত থাকবে।
রূপপুর কেন্দ্রের অন্যতম সুবিধা হলো এর দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি ক্ষমতা। একবার জ্বালানি লোড করার পর তা দিয়ে টানা দেড় বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। দেড় বছর পর পর জ্বালানি পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও রয়েছে সহজ পদ্ধতি; একসঙ্গে সব বান্ডেল বদলাতে হবে না, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি পরিবর্তন করলেই কেন্দ্রটি পুনরায় সচল থাকবে।
তবে জ্বালানি লোডিং শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে না। এর পরবর্তী ধাপে কয়েকশ কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। সব ধাপ সফলভাবে শেষ হলে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।







