কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া ফটোকার্ড ও বিকৃত ছবি ছড়িয়ে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। তবে সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগতভাবে এই ধরনের ছবির উৎস বা প্রথম আপলোডকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে সাইবার পেট্রোলিং ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধীদের খুঁজে বের করতে পারে।
সম্প্রতি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা ভুয়া ফটোকার্ডের শিকার হয়েছেন শিক্ষক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও। একটি গণমাধ্যমের লোগো ব্যবহার করে এমনভাবে এসব কার্ড তৈরি করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে যাচাই করা প্রায় অসম্ভব। প্রযুক্তির এই অপব্যবহারের কারণে ব্যক্তিগত মানহানির পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক সংঘাতের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
দেশের বিদ্যমান আইনি কাঠামোতে এআই-নির্মিত কনটেন্ট বা ডিপফেক মোকাবিলার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো আইন বা নীতিমালা নেই। ফলে ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করতে গেলেও প্রতিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। ২০২৪ সালের ‘ন্যাশনাল এআই পলিসি’ এখনো খসড়া পর্যায়ে থাকায় এর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে দ্রুত কার্যকর নীতিমালা ও কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব কনটেন্ট সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ করার সুযোগ তাদের হাতে নেই। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তারা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইন দিয়ে এটি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; ব্যবহারকারীদের মধ্যে ‘ডিজিটাল লিটারেসি’ বা সচেতনতা বাড়াতে হবে যেন কোনো তথ্য যাচাই না করে কেউ তা শেয়ার না করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ও অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপকরা মনে করেন, এই ডিজিটাল সন্ত্রাস মোকাবিলায় এলাকাভিত্তিক ম্যাপিং এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিশুদের পাঠ্যসূচিতে নৈতিকতা ও ডিজিটাল আচরণবিধি অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার সাথে সাথে সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।







