সংসদে গত ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার সরকারদলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ। বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন ও সেক্রেটারি জেনারেল বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তাজিরুল ইসলামসহ ৭১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এই প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে ফজলুর রহমানের বক্তব্যকে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী’ ও ‘অসংসদীয়’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, ফজলুর রহমান সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে যে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের সদস্য জামায়াতে ইসলামী করতে পারবে না—ফজলুর রহমানের এমন দাবিকে অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দিয়ে তাঁরা বলেন, স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে যেকোনো ব্যক্তি তাঁর পছন্দমতো রাজনৈতিক আদর্শ বেছে নিতে পারেন। এটি নাগরিকদের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অধিকার।
মুক্তিযোদ্ধারা আরও উল্লেখ করেন যে, স্বাধীনতার পর থেকে অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে বিভক্ত হয়েছেন এবং ১৯৭৯ সালের পর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা জামায়াতে ইসলামীতেও যোগ দিয়েছেন। কিশোরগঞ্জের কোম্পানী কমান্ডার আইয়ুব বিন হায়দারের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে কোনো অস্ত্র হাতে নেননি এবং তিনি কোনো কোম্পানী কমান্ডারও ছিলেন না। নিজের অতীত আদর্শ বিসর্জন দিয়ে বারবার দলবদল করা একজন ব্যক্তির এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদ ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় আক্রমণের জায়গা নয়, বরং আইন প্রণয়ন ও উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত। বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের চেতনার আলোকে দেশ গড়ার আহ্বান জানান তাঁরা। অন্যথায় দেশ পুনরায় ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে চলে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন মুক্তিযোদ্ধাগণ। ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন ও মো. তাজিরুল ইসলাম ছাড়াও বিবৃতিতে ফজলুল হক, আব্দুল ওয়ারেছ, ডা. আলতাফ হোসেনসহ আরও ৭০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা সই করেছেন।







