কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শাখা ছাত্রদলের একদল কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক কর্মচারীর জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কর্মচারী জহিরুল ইসলাম গত ৫ মে (মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন—বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম মনিরুজ্জামান এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবুল হায়াত।
অভিযুক্ত শিক্ষক জি এম মনিরুজ্জামান আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং আবুল হায়াত বঙ্গবন্ধু পরিষদ থেকে আওয়ামী সরকার আমলে কুবি শিক্ষক সমিতিতে যুগ্ম সম্পাদক পদে নির্বাচন করেন। আর যেসব শিক্ষার্থীদের নামে অভিযোগ করেছেন তাদের সবাই ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ মে সকালে সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ের ধনমোড়া এলাকায় জহিরুলের ক্রয়কৃত জমি দখল করতে যান ওই দুই শিক্ষক। তাঁদের সঙ্গে মালী কামাল, পরিচ্ছন্নতা কর্মী হাসান এবং কুবি শাখা ছাত্রদলের ১০-১৫ জন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। দখল কার্যক্রমে বাধা দিলে ওই কর্মচারীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দখল অভিযানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাইফুল মালেক আকাশ, জহিরুল ইসলাম জয় ও আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুদসহ বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। ভুক্তভোগী কর্মচারীর দাবি, ছাত্রদল কর্মীরা তাঁকে শাসিয়ে বলেছে যে খুঁটিগুলো তুললে হাত ভেঙে ফেলা হবে। এই দখল কার্যক্রম শিক্ষকদের সরাসরি নির্দেশেই পরিচালিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকই জমি দখলের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। অধ্যাপক ড. জি. এম মনিরুজ্জামান জানান, জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু কর্মচারী জহিরুল ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। শিক্ষার্থীদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা হয়তো নতুন ক্যাম্পাস দেখতে গিয়ে বাগ্বিতণ্ডা দেখে সেখানে এগিয়ে এসেছিল।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন তাঁরা ওই পথ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় শিক্ষকদের দেখে দাঁড়িয়েছিলেন, আবার কেউ স্বীকার করেছেন শিক্ষকদের সমস্যার কথা শুনে জেনেশুনেই সেখানে গিয়েছিলেন। শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং কোনো অপকর্মের প্রমাণ পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।







