ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৮ মে) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—কসবা উপজেলার ধ্বজনগর বাতান বাড়ি এলাকার মোরছালিন (২২) এবং মধুপুর গ্রামের নবীর হোসেন (৪০)। বিএসএফের গুলিতে আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহত মোরছালিন গোপীনাথপুর শাহ আলম ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে একদল চোরাকারবারি মোরছালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে সীমান্তে যায়। একই সময়ে নবীর হোসেনসহ আরও বেশ কিছু মানুষ ওই সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই মোরছালিন ও নবীর হোসেন প্রাণ হারান।
নিহতদের মরদেহ বর্তমানে ভারতের আগরতলার জিবি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত নবীর হোসেনের ছেলে মো. তপন জানান, তাঁর বাবা সন্ধ্যার পর থেকে বাড়িতে ছিলেন না; পরে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন বিএসএফ গুলি করে তাঁর বাবার মরদেহ নিয়ে গেছে। অন্যদিকে, আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চন্ডিদ্বার বিওপি কমান্ডার সুবেদার মইন উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ দুটি বর্তমানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে রয়েছে। লাশ ফেরত আনার প্রক্রিয়া হিসেবে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। যথাযথ পতাকা বৈঠক শেষে মরদেহগুলো বিজিবির কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। সীমান্তে এমন রক্তক্ষয়ী ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।







