কলকাতায় শুরু হয়েছে ‘বুলডোজার অভিযান’। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে বুধবার তিলজলা এলাকায় একটি চামড়ার কারখানা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বহুতলটি অবৈধভাবে নির্মিত হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা অবৈধ নির্মাণগুলো দ্রুত চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর ও একবালপুরের মতো এলাকাগুলোর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। এসব অবৈধ স্থাপনায় বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, অবৈধ নির্মাণ নিয়ে তাঁর সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করছে। যারা বেআইনি কাজে যুক্ত, তাদের এখনই সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এদিকে, দ্রুত বুলডোজার চালানোর এই নির্দেশের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিরোধীরা। ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এই পদক্ষেপকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ভাড়াটেদের পুনর্বাসনের দাবি জানানোর পাশাপাশি এই বেআইনি কাজের সঙ্গে আর কেউ যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভিন্ন এক ভূমিকায় দেখা গেছে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে। রাজ্যের প্রধান বিরোধী নেত্রী হিসেবে তিনি সরাসরি আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হন। ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাস ও দলীয় কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে প্রধান বিচারপতির এজলাসে আইনি লড়াইয়ে নামেন তিনি।
মমতা ব্যানার্জি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনের পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে এবং বহু কর্মী-সমর্থক ঘরছাড়া হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে শান্তি ও আইনের শাসন ফেরাতে তিনি আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাঁর এই আদালতে উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।







