জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর সমন্বয় কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য সর্দার আমিরুল ইসলাম সাগর। গত বছরের জুন মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগ দিলেও আদর্শিক ও নীতিগত অমিলের কারণে এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি দল থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি নিলেন।
আজ রবিবার (১৭ মে) বিকেলে সর্দার আমিরুল ইসলাম সাগর নিজেই গণমাধ্যমকে তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিস্তারিত স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের জুন মাসে এনসিপির প্রাথমিক লক্ষ্য, আদর্শ ও নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এবং মধ্যপন্থী রাজনীতির একটি নতুন শক্তি হিসেবে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে তিনি দলটিতে যুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনকালীন সময়ে দলটির হঠাৎ ডানপন্থী জোটে যোগদানের সিদ্ধান্ত তাঁর সেই উৎসাহ ও রাজনৈতিক উদ্দীপনাকে ম্রিয়মাণ করে দেয়। তবে সেই সময় এই সিদ্ধান্তকে দলের একটি রণকৌশল বিবেচনা করে জোট থেকে ব্যক্তিগত দূরত্ব বজায় রেখে দলের পক্ষে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছিলেন তিনি।
আমিরুল ইসলাম সাগর আরও জানান, নির্বাচন পরবর্তী সময়েও তিনি দলের মধ্যে ডানপন্থার বাড়ন্ত বা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করেন। এর ফলশ্রুতিতে গত দুই মাস ধরে তিনি দলের সমস্ত রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় রাখেন এবং দলের শীর্ষস্থানীয় নেতার কাছে তাঁর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র পেশ করেন। যদিও তখন দলের শীর্ষ নেতা তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে এনসিপির যে সুন্দর প্রতিশ্রুতি ও আদর্শে আকৃষ্ট হয়ে তিনি দলটিতে যুক্ত হয়েছিলেন, বর্তমানে দলের বাস্তব কার্যক্রমে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের আশা ভঙ্গের এই পরিস্থিতিতে এবং দলের বর্তমান রণনীতি ও রণকৌশলের সাথে নিজের মতদ্বৈততা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁর পক্ষে দলটির সঙ্গে আর সম্পৃক্ত থাকা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দল ছাড়লেও এনসিপির ভবিষ্যৎ পথচলার প্রতি তিনি শুভকামনা জানান।
রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডের দিক থেকে সর্দার আমিরুল ইসলাম সাগর এর আগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে ২০১৭ সালের আগস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি পোস্ট দেওয়ায় তিনি ছাত্রদল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ ২০ মাস পর ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল ছাত্রদল তাঁর সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে পুনরায় সসম্মানে সংগঠনে ফিরিয়ে নেয়।
উল্লেখ্য, সর্দার আমিরুল ইসলাম সাগর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাম্যর বড় ভাই। তাঁর ছোট ভাই সাম্য গত বছরের ১৩ মে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে দুর্বৃত্তদের নির্মম ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছিলেন, যা সেই সময় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।







