রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৈপ্লবিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অন্যতম মুখ, জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের তৃতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। অকালপ্রয়াত এই অভিনেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হয়েছিলেন তাঁর হাজারো সহযোদ্ধা, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী।
রবিবার (১৭ মে) রাত সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত এই জানাজায় দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
এর আগে রাত সোয়া ১০টায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি লাশবাহী গাড়িতে করে কারিনা কায়সারের মরদেহ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। এ সময় উপস্থিত বন্ধুমহল ও সহযোদ্ধাদের মাঝে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে পরিবারের পক্ষ থেকে কারিনার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তাঁর বাবা কায়সার হামিদ ও মা লোপা কায়সার।
কারিনার জানাজা শেষ করে ফিরে যাওয়ার সময় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে শহীদ মিনার থেকে ঐতিহাসিক রাজু ভাস্কর্যের দিকে এগিয়ে যান। এই বিক্ষোভ মিছিলে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব এবং উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর শীর্ষ নেতারা সম্মুখভাগে থেকে নেতৃত্ব দেন।
উত্তাল সেই মিছিল থেকে নেতাকর্মীরা ‘জুলাইয়ের কারিনা, লও লও লও সালাম’, ‘বিপ্লবী কারিনা, লও লও লও সালাম’, ‘অভ্যুত্থানের কারিনা, লও লও লও সালাম’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। একই সাথে রাজু ভাস্কর্য অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার সময় মিছিল থেকে ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘ইনকিলাব, ইনকিলাব’ এবং ‘ফ্যাসিস্টের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ প্রভৃতি বিপ্লবী স্লোগানে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা মুখরিত করে তোলেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।
মরহুমা কারিনা কায়সারের প্রথম জানাজা গতকাল বাদ মাগরিব বনানী ডিওএইচএস মাঠে এবং দ্বিতীয় জানাজা বাদ এশা বনানী দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত হয়। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, আজ সোমবার মুন্সিগঞ্জে তাঁর নিজ গ্রামের বাড়িতে চতুর্থ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং এরপর পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদায় তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।







