সৌদি আরবে হজকালীন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এবং জাল নথিপত্র ব্যবহার করে পবিত্র মক্কায় প্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আহমেদ আলী মুকিবকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। একই সাথে সৌদির কঠোর আইন অনুযায়ী জালিয়াতি ও বেআইনি অনুপ্রবেশের অপরাধে তাঁর সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ৯ মে মক্কায় প্রবেশের একটি প্রধান নিরাপত্তা চেকপোস্টে আহমেদ আলী মুকিবের কাগজপত্র পরীক্ষার সময় এই জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। সৌদির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, তিনি হজের জন্য নির্ধারিত বৈধ প্রক্রিয়া বা অনুমতিপত্র না নিয়ে, উল্টো ভ্রমণ সংক্রান্ত নথিপত্রে জাল সিল ব্যবহার করে পবিত্র মক্কায় ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। এই ঘটনার পর মক্কা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও নকল সিল ব্যবহারের অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে আহমেদ আলী মুকিবের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আইনি সহায়তার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে। রিয়াদ ও জেদ্দাভিত্তিক দায়িত্বশীল কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস ও জেদ্দায় অবস্থিত কনস্যুলেট জেনারেলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই আটক এই নেতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক ‘কনস্যুলার অ্যাক্সেস’ বা যোগাযোগের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
অবশ্য আহমেদ আলী মুকিবকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা চলমান আইনি পরিস্থিতি সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তবে হজের মতো একটি সংবেদনশীল ধর্মীয় মৌসুমের মাঝে জালিয়াতির অভিযোগে হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের এই শীর্ষ কর্মকর্তার গ্রেপ্তার ও কারাগারে যাওয়ার খবরটি দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।







