ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেলের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন জ্বালানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে অপরিশোধিত তেল, পেট্রোল ও ডিজেলের রিজার্ভ বর্তমানে উদ্বেগজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কয়েক মাস ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজার থেকে তেল আমদানিতে বড় ধাক্কা খেয়েছে আমেরিকা। যার ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে নিজেদের সংরক্ষিত তেলের ওপর এখন ওয়াশিংটনকে ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন জ্বালানি বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, ‘মেমোরিয়াল ডে উইকেন্ড’-এর আগের সপ্তাহেই দেশটির বাণিজ্যিক ও জরুরি কৌশলগত মজুত থেকে আরও ১ কোটি ৭৪ লাখ ব্যারেল তেল ও জ্বালানি ব্যবহার করা হয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ডি লিপো এই সংকটের বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থা এভাবে অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে না; এটি দ্রুত সমাধান না হলে অদূর ভবিষ্যতে মার্কিন নাগরিকেরা এক ভয়াবহ ও অভূতপূর্ব জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হবেন।
এদিকে, অভ্যন্তরীণ বাজার সচল রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ‘কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ’ (এসপিআর) থেকেও আশঙ্কাজনক হারে তেল উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। ফেডারেল রিপোর্ট বলছে, গত মাত্র এক সপ্তাহে এসপিআর থেকে আরও ৯১ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কমে গেছে, যা আগের সপ্তাহের রেকর্ড পতনের হুবহু কাছাকাছি। পরিস্থিতি কতটা নাজুক তা স্পষ্ট করে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, শুধু গত দুই মাসেই দেশটির জরুরি ও সংরক্ষিত রাষ্ট্রীয় মজুত থেকে প্রায় ৫ কোটি ব্যারেল তেল উধাও বা হ্রাস পেয়েছে।







