কিশোরগঞ্জ সদরে গণঅধিকার পরিষদের এক নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ৫ নম্বর কর্শাকড়িয়াইল ছোয়ানি পাড়া গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নেতার নাম সেলিম খান, যিনি কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই বর্বরোচিত হামলায় নেতা সেলিম খানসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সেলিম খানের বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা চলে যাওয়ার পর কয়েকজন যুবক বাড়ির সামনে এলোমেলোভাবে মোটরসাইকেল রেখে পাশের এলাকায় যায়। সেই মোটরসাইকেলটি সরিয়ে রাখতে বলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে যুবকদের সাথে কথাকাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই একদল লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এসে ওই বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা বাড়ির জানালা-দরজা, মূল্যবান আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল নির্বিচারে ভাঙচুর করে। ভাঙচুরের পাশাপাশি তারা ঘর থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণের চেইন ও আংটিসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। সেলিম খান ও তাঁর বোন মদিনা আক্তার জানান, মোটরসাইকেল সরাতে বলায় তাঁদের পরিবারের নারীদের ওপরও নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। সেলিম খানের ধারণা, এলাকায় মাদক সেবন ও ব্যবসার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার কারণেও তাঁকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়ে থাকতে পারে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ সোহেল মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাপক ভাঙচুরের চিহ্ন দেখতে পান। এলাকায় মাদক ব্যবসা বেড়ে যাওয়ার কারণেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে অভিযুক্ত মো. জালাল উদ্দিন তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, সেলিম খানের পরিবারের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁর এক ভাতিজা অন্য কারও হয়ে সেখানে ঝগড়া করায় এখন অন্যায়ভাবে তাঁর নাম জড়ানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







