যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষমতা সীমিত করতে একটি প্রস্তাব পাস করেছে। এ ঘটনাকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (৩ জুন) ডেমোক্র্যাট সদস্যদের উত্থাপিত ‘ওয়ার পাওয়ারস’ প্রস্তাবটি ২১৫-২০৮ ভোটে পাস হয়। ভোটাভুটিতে চারজন রিপাবলিকান সদস্যও ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে অবস্থান নেন। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও প্রস্তাবটি পাস হওয়া রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রস্তাবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া চলমান ইরান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এটি এখনো আইন নয়। কার্যকর হতে হলে সিনেটেও প্রস্তাবটি পাস হতে হবে। এরপর প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য ভেটো অতিক্রম করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত হলেও প্রস্তাবটি ট্রাম্পের জন্য একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। এর আগে একই ধরনের তিনটি উদ্যোগ প্রতিনিধি পরিষদে ব্যর্থ হলেও প্রতিবারই সমর্থনের সংখ্যা বেড়েছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেন। যদিও তিনি এটিকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়, বরং সীমিত সামরিক অভিযান হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রেসিডেন্টের একতরফা সামরিক পদক্ষেপে কংগ্রেসের অনেক সদস্য অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত।
চলতি বছরে এটি ছিল ‘ওয়ার পাওয়ারস’ প্রস্তাবের ওপর চতুর্থ ভোট। এর মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ট্রাম্পকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ মে এ বিষয়ে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। সে সময় রিপাবলিকানদের একটি অংশও প্রস্তাবটির পক্ষে যেতে পারে—এমন ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। পরে হাউস স্পিকার মাইক জনসন নির্ধারিত সময়ের আগেই অধিবেশন মুলতবি করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। আগামী শনিবার সংঘাতের ১০০ দিন পূর্ণ হবে। যদিও ৮ এপ্রিল থেকে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তারপরও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা







