ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও চাপ মোকাবিলায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, জাতীয় সংহতি বজায় থাকলে দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের কোনো অপচেষ্টাই সফল হবে না।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বার্তায় খামেনি ইরানিদের মধ্যে বিভেদ ও মতপার্থক্য দূরে রেখে জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া ওই বার্তায় তিনি জনগণ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহেরের বরাত দিয়ে আনাদোলু জানায়, খামেনি দাবি করেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষ সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক উভয় ধরনের সমন্বিত বা ‘হাইব্রিড’ যুদ্ধ পরিচালনা করছে। যদিও তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, সামরিক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পর এখন সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস্থা ও ঐক্য অটুট থাকলে কোনো বাহ্যিক চাপ বা ষড়যন্ত্র ইরানকে দুর্বল করতে পারবে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুদ্ধবিরতির পরও বিভিন্ন হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর দুই পক্ষের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি একটি সমঝোতার বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে। তাঁর মতে, সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল নিশ্চিত করা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানোর পথ সুগম হতে পারে।







