শান্তি ফেরার কোনো লক্ষণ নেই ভারতের উত্তর-পূর্বের অশান্ত রাজ্য মণিপুরে। সুপ্ত ছাইচাপা আগুন যে যেকোনো মুহূর্তে আবারও দাউদাউ করে জ্বলে উঠতে পারে, তারই প্রমাণ মিলল আজ শুক্রবার (৫ জুন) সাতসকালে। মণিপুরের কাংপোকপি জেলার নিউ কেইথেলমানবি এলাকার অন্তর্গত লৈবল (লোইবোল) গ্রামে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া জাতিগত হিংসায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত তিন জন সাধারণ গ্রামবাসী।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোর ৪টে ১০ নাগাদ ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল অজ্ঞাত দুষ্কৃতী আচমকাই ওই গ্রামে হানা দেয়। তারা গোটা গ্রাম লক্ষ্য করে নির্বিচারে এবং এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করলে গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলির পাশাপাশি হামলাকারীরা গ্রামের বাড়িগুলিতে একের পর এক আগুন লাগিয়ে দেয়, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে বেশ কিছু ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এই অতর্কিত এবং নৃশংস হামলায় ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী নিহতদের শনাক্ত করা গেছে। তাঁরা হলেন— লেটখঙ্গাম হাওকিপ, তিনমেরি (টিনমারী) হাওকিপ এবং জংমিনলাল হাওকিপ। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে।
গ্রামের ভেতর ব্যাপক গুলিবর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বিশাল পুলিশ ও যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত সেনা ও আধা-সামরিক বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে ওই গ্রামের পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে এবং সেখানে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। আর যাতে নতুন করে হিংসা না ছড়ায়, তার জন্য পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখেছে জওয়ানেরা এবং শুরু হয়েছে কড়া পুলিশি টহলদারি।
এই হামলার দায় এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা উগ্রপন্থী সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর নেপথ্যে সুপরিকল্পিতভাবে কোনও সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠী জড়িত রয়েছে। হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে প্রশাসন পুরো বিষয়টির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
২০২৩ সালে মণিপুরে এই জাতিগত দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হলেও তার রেশ যে এখনো কাটেনি, তা আজ সকালের এই সর্বশেষ রক্তক্ষয়ী ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দিল। এই ঘটনার পর স্পর্শকাতর অঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।







