সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে বাংলাদেশিদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য শুধু আপত্তিকরই নয়, জাতির জন্যও অপমানজনক।
শনিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এমন বক্তব্য প্রত্যাশিত নয়। তিনি অভিযোগ করেন, বক্তব্য দেওয়ার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তা প্রত্যাহার বা ব্যাখ্যা করেননি। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো ধরনের ভিন্নমত বা নিন্দা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এ মন্তব্যকেই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে ধরে নেওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘সীমান্ত হত্যা’ শব্দটির ব্যাখ্যা সংকুচিত করে সমস্যাটির গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কেবল শূন্যরেখা বা জিরো লাইনে সংঘটিত মৃত্যুকেই সীমান্ত হত্যা বলা যেতে পারে। সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট অপরাধ বা অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনায় অন্য দেশের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহতদের ক্ষেত্রে এ শব্দ প্রযোজ্য নয় বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও জাতিসংঘের নীতিমালা এ ধরনের ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে না। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাঠামো এবং জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের ওপর বেআইনি গুলি, নির্যাতন বা অমানবিক আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এমনকি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা আন্তর্জাতিক আইনে গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক মাত্রার বলপ্রয়োগ করতে পারে, কিন্তু প্রাণঘাতী শক্তির নির্বিচার বা অতিরিক্ত ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়।
নাহিদ ইসলাম স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২০ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনও সীমান্ত হত্যার বিষয়ে অনুরূপ মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তার ভাষায়, ভারতের প্রতি সেই সরকারের নতজানু অবস্থান জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই পরবর্তী সরকারের একজন মন্ত্রীর কাছ থেকে একই ধরনের বক্তব্য উদ্বেগজনক।
বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনায় সরকারের অবস্থান হতে হবে স্পষ্ট, দৃঢ় এবং জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।







