করের আওতা বাড়াতে এবার দেশে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার। শুধু নতুন হিসাব খোলাই নয়, বিদ্যমান ব্যাংক হিসাব সচল রাখতেও টিআইএন থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে।
তবে শিক্ষার্থী, সরকারি ভাতাভোগী এবং গেজেটের মাধ্যমে কর অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় দেওয়া হতে পারে। আসন্ন বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ সংক্রান্ত প্রস্তাব দিতে পারেন।
বর্তমানে টিআইএন না থাকলে ব্যাংক আমানতের সুদের ওপর বেশি হারে উৎসে কর দিতে হয়, তবে এতদিন টিআইএন নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল না। ব্যাংকারদের মতে, টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হলে ব্যাংক হিসাবধারীর সংখ্যা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন—দুটিই কমে যেতে পারে। তবে কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে ব্যাংক লেনদেনের ওপর নজরদারি বাড়বে এবং কর ফাঁকির সুযোগ কমবে।
করের আওতা বাড়াতে এনবিআর আরও কয়েকটি নতুন পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৫০ সিসি বা তার বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করা, উৎসে কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উইথহোল্ডার্স রেজিস্ট্রেশন নম্বর (উইন) চালু করা এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ কর আরোপ।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, এর আগে ক্রেডিট কার্ডধারীদের জন্য টিআইএন বাধ্যতামূলক করার পর কার্ড গ্রহণের হার কমে গিয়েছিল। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংক লেনদেনও কমে যেতে পারে। মানুষের মধ্যে ব্যাংকিং খাত নিয়ে যে ভীতি রয়েছে, কোনো কিছু বাধ্যতামূলক করার আগে এনবিআরের উচিত প্রথমে তার সমাধান করা।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৭ কোটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। কর বিশেষজ্ঞ এবং এসএমএসি অ্যাডভাইজরি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, নগদনির্ভর অর্থনীতিতে ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক করার মতো পদক্ষেপ আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে ঠেলে দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কঠোর বাধ্যবাধকতার পরিবর্তে সরকারের উচিত প্রথমে একটি নগদবিহীন লেনদেনব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া এবং কর রিটার্নে ডিজিটালভাবে ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রকাশের সুযোগ তৈরি করা। জাতীয় সম্পদসংক্রান্ত তথ্যভান্ডারকে কর রিটার্নের সঙ্গে পুরোপুরি একীভূত করা গেলে কর ফাঁকি রোধ এবং করদাতার পরিধি বাড়ানো সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন।







