৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ধুমধামে পালনের সরকারি ঘোষণার মাঝেই মুন্সিগঞ্জে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা মাত্র এক হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মুন্সিগঞ্জে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে ৩ জন শহীদ এবং ৯৩ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষ আসামি সোহেল এই জামিন পান।
অভিযোগ উঠেছে, কোটি টাকার গোপন লেনদেনের মাধ্যমে বিএনপিপন্থী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনজীবী এবং আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের একটি সিন্ডিকেট এই জামিন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। জামিন পাওয়ার পর গভীর রাতে (১টার দিকে) জেলগেট থেকে সোহেলকে গোপনে ও নিরাপদে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে মুন্সিগঞ্জের এই হামলার ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার আরও একটি চেষ্টা সামনে এসেছে। অপর একটি মামলায় পুলিশ আদালতে এই মর্মে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করেছে যে, সোহেলসহ মামলার বাকি আসামিরা ঘটনার সাথে জড়িতই ছিলেন না।
কোটি মানুষের চোখ আর শত শত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পুলিশের এই ধরনের চার্জশিট সত্যকে মিথ্যা বানানোর এক নগ্ন প্রয়াস বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, এই ধারা অব্যাহত থাকলে একসময় দাবি করা হবে যে সেদিন মুন্সিগঞ্জে কোনো হামলার ঘটনাই ঘটেনি, কেউ গুলি খায়নি বা মারা যায়নি; ঠিক যেভাবে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার সত্যকে মিথ্যা বানিয়ে জুলুম শুরু করেছিল।
একই সাথে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মামলার অন্য দুই প্রধান অভিযুক্ত— পঞ্চসারের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা এবং শহিদুল ইসলাম শাহিনকে গোপনে আদালতে আত্মসমর্পণ করিয়ে জামিন দেওয়ার একটি বিশেষ প্রক্রিয়া বা সমঝোতা চলছে বলে জানা গেছে।







