ভয়াবহ ক্ষমতার অপব্যবহার, গুম, খুন ও বন্দী নারীদের ওপর পাশবিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে র্যাব-১১ এর সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি) আলেপ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থী ও তাঁর স্ত্রীর ওপর এই পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। কুড়িগ্রামের বাসিন্দা এই বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ভেতরে থাকা অপরাধমূলক মানসিকতাকে ফুটিয়ে তুলেছে।
অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আলেপ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি কালো মাইক্রোবাস তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানা দেয়। খবর পেয়ে ওই শিক্ষার্থী পালিয়ে আত্মরক্ষা করলেও রেহাই পায়নি তাঁর পরিবার। সেই শিক্ষার্থীকে না পেয়ে আলেপ উদ্দিন তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া স্ত্রী ও শ্যালককে বাসা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান এবং র্যাব-১১ কার্যালয়ে টানা তিন দিন আটকে রাখেন।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তাঁর নিরপরাধ স্ত্রীকে বাঁচাতে নিরুপায় হয়ে আলেপ উদ্দিনের কাছে ধরা দেন। কথা ছিল স্বামী ধরা দিলে স্ত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আলেপ উদ্দিন স্বামীকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ওই বন্দি নারীকে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এমনকি পবিত্র রমজান মাসে শবে কদরের রাতেও রোজা ভাঙিয়ে সেই নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগে প্রকাশ পায়।
ধর্ষণের এই ভয়াবহ বিষয়টি পরবর্তীতে জানতে পেরে ভুক্তভোগী স্বামী আলেপ উদ্দিনকে ফোন ও মেসেজ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এর জবাবে আলেপ উদ্দিন উল্টো ওই নারীর ফোনে বার্তা পাঠিয়ে অত্যন্ত ধৃষ্টতার সাথে জানান, “কোনো লাভ হবে না, বন্দী নারী ও বন্দী পুরুষদের স্ত্রীদেরকে ধর্ষণ করা র্যাবে অলিখিতভাবে স্বীকৃত।” রাষ্ট্রীয় বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন বক্তব্য ভুক্তভোগী পরিবারকে স্তব্ধ করে দেয়।
এই নারকীয় নির্যাতনের পর থেকে ভুক্তভোগী নারী চরম ট্রমা ও মানসিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হন। জীবন্মৃত লাশ হয়ে দিন কাটানো ওই নারী প্রায়ই চিৎকার করে আক্ষেপ করতেন, এটি স্বাধীন বাংলাদেশ নাকি মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তান। তীব্র মানসিক যন্ত্রণা ও ট্রমা সহ্য করতে না পেরে অবশেষে ২০১৯ সালে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে এই ভুক্তভোগী নারীর করুণ মৃত্যু হয়।
আলেপ উদ্দিনের মতো কর্মকর্তাদের এমন অজস্র গুম, খুন, অপহরণ এবং বন্দী নারীদের ওপর বর্বর নির্যাতনের অভিযোগের পাহাড় জমে ওঠার পর আন্তর্জাতিক মহলেও এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং এর বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের কালো তালিকাভুক্ত করে।







