একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামীর জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত—বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বিএনপি ক্ষমতায় এসে পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া অন্তত ১৪ থেকে ১৫ জন ব্যক্তিকে মন্ত্রী, এমপি, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী করেছিল। তাই এ বিষয়ে জবাব বিএনপিকেই দিতে হবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গত রোববার জাতীয় সংসদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতার জন্য জামায়াতকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানোর পর এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এলো।
মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ করে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আয়নায় নিজের চেহারা দেখুন। ক্ষমা আপনার বাবাকে কবর থেকে চাইতে বলেন। কারণ আমরা অপরাধ করি নাই, ক্ষমা চাইব কেন? আপনার বাবা অপরাধী, এই অভিযোগ আছে। সুতরাং কথা সতর্কভাবে বলা উচিত।’
চলতি সময়ে বারবার একাত্তরের প্রসঙ্গ টেনে আনার কড়া সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিবের মাথায়ও মাঝে মাঝে ভূত চাপে। কিছুদিন গেলেই ৫০-৬০ বছরের পুরোনো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত বিষয়কে সামনে এনে জাতির মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেন।’ রাজনৈতিক বাস্তবতায় তখনকার নেতৃবৃন্দ যে ভূমিকা রেখেছিলেন তার ব্যাখ্যা তারা দিয়ে গেছেন এবং তারা এখন বেঁচে নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি এখন শুধুই রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়।
বিএনপির সঙ্গে অতীতের দীর্ঘ রাজনৈতিক জোটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট করার সময় বিএনপির এই অবস্থান কোথায় ছিল? খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চারদলীয়, ১৮-দলীয় ও ২০-দলীয় জোটে প্রায় ২০-২২ বছর বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে রাজনীতি করেছে। এমনকি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় গোলাম আযমের বাসায় বিএনপি নেতারা জামায়াতের সমর্থন চাইতে গিয়েছিলেন। তখন একাত্তরের প্রশ্ন তাদের মনে ছিল না।
১৯৯১ সালে বিএনপিকে সরকার গঠনে জামায়াতের সমর্থনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের হত্যা শুরু করেছিল ছাত্রদল। এটাই কি বিএনপিকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিদান? তিনি বলেন, যখনই জামায়াতকে মোকাবিলা করার যুক্তি ও নৈতিকতা থাকে না, তখনই পুরোনো কাসুন্দি টেনে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের দু-একটি গণমাধ্যমের নেতিবাচক ভূমিকারও সমালোচনা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ব্যবসায়ী গ্রুপের সংবাদপত্র সরাসরি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা ও মুখপত্রের ভূমিকা পালন করছে। ফ্যাসিবাদ যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন এসব সংবাদপত্র নির্লজ্জভাবে ফ্যাসিবাদের দালালি করেছে এবং ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর হঠাৎ তারা রূপ পরিবর্তন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, অতীতে বিভাজনের রাজনীতির কারণে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকারও নেপথ্যে থেকে আবারও সেই বিভাজনের রাজনীতি শুরু করেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।







