চট্টগ্রাম অঞ্চলজুড়ে সাম্প্রতিক প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্লাবিত হয়েছে পুরো অঞ্চলের বিস্তীর্ণ নিম্নভূমি, যার ফলে লাখ লাখ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একই সাথে কক্সবাজারের উখিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের মতো মারাত্মক দুর্যোগ দেখা দেওয়ায় পুরো অঞ্চলে এক চরম মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, আনোয়ারা ও পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার গ্রামীণ সড়ক, ঘরবাড়ি এবং ফসলি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। বানের পানিতে ভেসে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও গবাদিপশু। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এবং নিরাপদ পানির তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় বন্যার্ত মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে।
বন্যা পরিস্থিতির পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি ও দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবারই (৮ জুলাই) কক্সবাজারের উখিয়ায় একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় পাহাড়ধসে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
এই চরম সংকটের মুহূর্তে দুর্গত মানুষদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা বন্যাকবলিত ও উপদ্রুত এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা ও ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছেন।
সংগঠনের নেতাকর্মীরা সরাসরি বানভাসি ও অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল, ডাল, মুড়ি ও চিড়াসহ শুকনো খাবার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। জামায়াত নেতারা জানান, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ও রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি। বন্যা ও পাহাড়ধসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।







