ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে অনুমোদিত প্রায় দুই ডজন উন্নয়ন ও সেবামূলক প্রকল্প এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এই দীর্ঘসূত্রতার জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং সরকারের বিভিন্ন মহলের বাধাকে দায়ী করেছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক বিবৃতিতে সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সহযোগিতায় এসব শিক্ষার্থীবান্ধব প্রকল্প অনুমোদন পেলেও প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে এগুলোর বেশিরভাগই দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে।
তাঁর দাবি, ডাকসু এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সমন্বয়ে আবাসিক হলগুলোতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, আইটি প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠাসহ মোট ছয়টি বড় প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি প্রকল্পও স্থবির হয়ে আছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে স্যার এ. এফ. রহমান হলের প্রবেশদ্বার নির্মাণ, ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার সংস্কার, ক্যাম্পাসের পুকুর পাড় বাঁধাই, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, লাইটিং এবং সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম।
বিবৃতিতে ডাকসু ভিপি আরও জানান, কাজী মোতাহার হোসেন ভবন এলাকায় ক্যান্টিন স্থাপন, ক্যাম্পাসে বড় আকারের ডাস্টবিন বসানো এবং প্রায় দুই কোটি টাকার একটি বড় ক্যান্টিন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও সুপারিশ পাওয়ার পরও ফাইলবন্দি হয়ে আছে।
পাশাপাশি ক্যাম্পাসে নিবন্ধিত রিকশা ব্যবস্থা চালু, পুরোনো যানবাহন নিলামে বিক্রি করে নতুন দুটি মিনিবাস ও দুটি মাইক্রোবাস কেনা, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অর্থায়নে মাঠ সংস্কার এবং টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে ক্যান্টিনে খাদ্য সরবরাহের উদ্যোগগুলোও থমকে গেছে।
আটকে থাকা অন্যান্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে—পাবলিক ওয়াশরুম নির্মাণ, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে কলাভবন পর্যন্ত সড়ক সংস্কার, আবাসিক হলগুলোতে বাগান স্থাপন, শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও ‘অল ইন ওয়ান ডিইউ অ্যাপ’ তৈরি এবং কার্জন হল এলাকায় নতুন ক্যান্টিন স্থাপনসহ হলভিত্তিক মক্তব প্রকল্প।
সাদিক কায়েম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এসব জনকল্যাণমুখী প্রকল্প কেন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না, সে বিষয়ে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা মেলেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনুমোদিত শিক্ষার্থীবান্ধব প্রকল্পগুলো যদি রাজনৈতিক বিবেচনায় স্থগিত রাখা হয়ে থাকে, তবে তা শিক্ষার্থীদের স্বার্থের চরম পরিপন্থী।
প্রশাসনের এমন অসহযোগিতা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের দেওয়া সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ডাকসু কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে সাদিক কায়েম বলেন, বাজেট সংকট উপেক্ষা করে হলেও আমরা আমাদের দায়িত্বকালীন সময়ের মধ্যেই সব অঙ্গীকার পূরণ করব এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর ও আধুনিক ক্যাম্পাস উপহার দিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।







