মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা ‘নীট’ (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ও শিক্ষা ব্যবস্থার নজিরবিহীন অনিয়মের প্রতিবাদে ভারতে চলমান আন্দোলন আরও তীব্র রূপ ধারণ করেছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার একদফা ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারী ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সোমবার (২০ জুলাই) দলটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই অনড় অবস্থানের কথা জানান। ভারতীয় শীর্ষ সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মুখপাত্র সৌরভ দাস তাঁর পোস্টে জানান, আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় তিনি সোমবার দুপুর ১২টা থেকে ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার বাসভবনে অবস্থান করছেন। সেখানে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ বা বরখাস্তের দাবিসহ তাঁদের সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো লিখিত আকারে মন্ত্রীর কাছে পেশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন এবং যথাযথ উচ্চপর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা করার আশ্বাস দিলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো প্রতিশ্রুতি বা লিখিত অঙ্গীকার দেওয়া হয়নি। ফলে দাবি সম্পূর্ণ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা ঘরে ফিরবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
এর আগে সোমবার সকালে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই দিল্লির জন্তর মন্তর এলাকা থেকে সিজেপির পূর্বঘোষিত ‘পার্লামেন্ট অভিমুখে চলো সংসদ পদযাত্রা’ কর্মসূচি ছিল। তবে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে সংসদের দিকে এগোতে থাকলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথরোধ করে। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়, যাতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হন। ভারতভিত্তিক সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI) পুলিশের এই অ্যাকশন ও লাঠিচার্জের খবরটি নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (এনআইআইটি/নিট) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ৬ জুন থেকে রাজপথে টানা আন্দোলন করছে সিজেপি। তরুণদের এই যৌক্তিক আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির রাজপথে আমরণ অনশনে বসেন ভারতের প্রখ্যাত জলবায়ু ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনাম ওয়াংচুক, যা আন্দোলনকে দেশজুড়ে এক নতুন মাত্রা দেয়।
পূর্বঘোষিত এই পদযাত্রা কর্মসূচির জন্য ককরোচ জনতা পার্টি আগে থেকেই দিল্লি পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুমতি চেয়েছিল, কিন্তু আইন-শৃঙ্খলার অজুহাতে পুলিশ তা প্রত্যাখ্যান করে বড় ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার অধিকার রক্ষায় পুলিশের সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই রাজপথে নামার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় ককরোচ জনতা পার্টি, যার জেরে সোমবার দিল্লির রাজপথ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।







