১৯ বছর বয়সী উদীয়মান তারকা ফুটবলার লামিন ইয়ামাল ২০০৭ সালের ১৩ জুলাই বার্সেলোনার পার্শ্ববর্তী এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আজকের তারকা হয়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছে এক সংগ্রামের গল্প, যেখানে এক কিংবদন্তি মূলত আরেক কিংবদন্তিকে গড়ে তুলেছেন।
লামিনের জন্মের সময় তাঁর মা শেইলা এবানা’র বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর এবং বাবা মুনির নাসরাউইয়ের বয়স ছিল ১৫ বছর। ১৯৯২ সালে জন্ম নেওয়া মরক্কো বংশোদ্ভূত নির্মাণশ্রমিক ও রংমিস্ত্রি বাবার বয়স ২০২৬ সালে ৩৪ বছর। তবে লামিনের বয়স যখন মাত্র তিন বছর, তখনই তাঁর মা-বাবার বিচ্ছেদ ঘটে।
মা-বাবার বিচ্ছেদের পর লামিনকে মূলত আগলে রেখে বড় করে তোলেন তাঁর দাদি ফাতিমা। ১৯৯০ সালে মরক্কো থেকে নৌকায় করে স্পেনে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফাতিমা। জীবনযুদ্ধের শুরুতে তাঁকে পাতলা গদিতে ঘুমিয়ে ও শরণার্থী শিবিরে থেকে দিন কাটাতে হয়েছে। কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি তিন শিফটে কাজ করে একদিকে কৈশোরে বাবা হওয়া নিজের ছেলের দায়িত্ব নিয়েছেন, অন্যদিকে নাতি লামিনকেও বড় করেছেন। লামিন আজও গর্বের সঙ্গে তাঁর দাদির ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন।
কৈশোরের শুরুতেই বার্সেলোনার বিখ্যাত একাডেমি ‘লা মাসিয়া’য় যোগ দেন ইয়ামাল। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি; মাত্র ১৫ বছর বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে তাঁর অভিষেক হয়। ইউরো ২০২৪-এ একাধিক রেকর্ড গড়ে বিশ্ব ফুটবলে তিনি নিজেকে অন্যতম সেরা তরুণ প্রতিভা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
স্পেন দলের হয়ে খেললেও শিকড়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশে কখনো পিছপা হননি এই তরুণ। মাঠে নামার সময় তিনি নিজের বুটে মরক্কো ও নিরক্ষীয় গিনির পতাকা বহন করেন। এছাড়া গোল উদযাপনের সময় হাতের আঙুলে ‘৩০৪’ চিহ্ন প্রদর্শন করেন, যা মূলত তাঁর বেড়ে ওঠা স্পেনের মাতারো এলাকার পুরোনো টেলিফোন কোড।
এমনকি তাঁর ‘লামিন’ ও ‘ইয়ামাল’ নামদুটির পেছনেও রয়েছে এক বিশেষ কৃতজ্ঞতার গল্প। বাবা-মায়ের কৈশোরে কঠিন আর্থিক সংকটের দিনে যেসব প্রতিবেশী ও বন্ধু তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি সম্মান জানাতেই এই দুটি নাম রাখা হয়েছিল।







