দল থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলামকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ না করলে তাঁর সংসদ সদস্যপদ বাতিলের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত আবেদন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে দলটি।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমকে জানান, গাজী নজরুল এখন আর দলের অন্তর্ভুক্ত নন, ফলে জামায়াতের এমপি হিসেবেও তাঁর কোনো বৈধতা নেই। সে কারণে তাঁর এমপি পদ বাতিলের বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, তার সবই গ্রহণ করা হবে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি তদন্তে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করে জামায়াত। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে ‘নৈতিক স্খলনের’ স্পষ্ট প্রমাণ মেলায় জামায়াত আমিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কার করা হয় এবং অনতিবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঘটনার নেপথ্যে জানা যায়, গত সোমবার রাতে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন গাজী নজরুল। যদিও গত ১৭ জুন বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়, তবে বিয়ের কাজী বদরুল আলম জানান, বিয়ের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে ১৯ জুলাই। এ তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সংগঠনের সংসদীয় দলের কোনো সদস্যই গাজী নজরুলের পক্ষে অবস্থান নেননি; বরং দলের সম্মান রক্ষায় সবাই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দেন। গাজী নজরুল পদত্যাগ না করে আইনি লড়াই চালিয়ে গেলেও তাঁকে জামায়াতের অন্য সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সংসদে বসতে দেওয়া হবে না বলে দলটি পরিষ্কার করেছে।







