খাবারের দাম কম না রাখা এবং অতিরিক্ত দাম চাওয়ার অভিযোগ তুলে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসের এক দোকানদারকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের দুই আহ্বায়ক সদস্য ইয়াস্তি আল মামুন ও আলফাজ উদ্দিন মালিতার বিরুদ্ধে। এ সময় ঘটনায় বাধা দেওয়ায় এবং কর্মচারীদের পক্ষে কথা বলায় ক্যাম্পাসের সাউথ হলের এক সিনিয়র শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত ৯টার দিকে কলেজের বকুল চত্বর সংলগ্ন কর্মচারী কল্যাণ হোটেলে এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ থেকে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে কর্মচারী কল্যাণ হোটেলে পেয়ারা কিনতে গিয়ে দাম ও ওজন নিয়ে দোকানদার জাবেদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতা মামুন ও আলফাজের বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে ১০-১৫ জনের একটি দল নিয়ে ওই দোকানদারের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। সে সময় ঘটনা দেখে বাধা দিতে এগিয়ে এলে সাউথ হলের শিক্ষার্থী রিয়াদসহ অন্য কয়েকজনকে চরম হেনস্তার মুখোমুখি হতে হয়।
একটি ফাঁস হওয়া অডিওতে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাদের সিনিয়র শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে হুমকি দিতে শোনা যায়। অডিওতে তারা প্রকাশ্যে নিজেদের ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে নিজেদের পক্ষে না কথা বলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং “এখনও ঠ্যাং ভালো থাকা ভাগ্য” বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পাশাপাশি এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে উসকানিমূলক মন্তব্য ও সালাম দিয়ে কথা বলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে।
তবে হামলার অভিযোগ পুরোপুরি স্বীকার না করে ছাত্রদল নেতা ইয়াস্তি আল মামুন ও আলফাজ উদ্দিন মালিতা দাবি করেছেন, ক্যাম্পাসের ভেতরে পেয়ারার অতিরিক্ত দাম রাখা নিয়েই মুলত ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছিল। সাউথ হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি ও কথার প্রেক্ষিতে কিছু বাকবিতণ্ডা হলেও সরাসরি হুমকি দেওয়ার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব মিল্লাদ হোসেন জানান, অন্যায় ও অপকর্মকে দল কখনোই প্রশ্রয় দেয় না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে যাচাই-বাছাই করে সত্যি প্রমাণিত হলে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







