রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতের সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে সম্প্রতি রাকসু কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর পরিস্থিতির বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি তথাকথিত ‘সুশীল সমাজ’ ও মানবাধিকার কর্মীদের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে আসা শিবিরকর্মী রাসেলকে শুধুমাত্র ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের কারণে তৎকালীন ছাত্রলীগ কর্মীরা গুলি ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে পঙ্গু করে দিয়েছিল। সেদিন মানবাধিকার সংগঠন বা তথাকথিত সুশীলদের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর প্রতিবাদ বা এই ঘটনাকে ‘মব’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে প্রকাশ্যে এমন নির্মম ও নৃশংসতার পরও যারা নিশ্চুপ ছিলেন, আজ গণহত্যা ও রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো গোষ্ঠীকে প্রতিহত করতে গেলে তারাই আবার নীতি-নৈতিকতা ও মানবাধিকারের কথা বলে সোচ্চার হচ্ছেন। রাজনৈতিক এই দ্বিমুখী আচরণ ও সুশীল সমাজের নীরবতাকে তিনি তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেন।
উল্লেখ্য যে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্র শিবিরের নেতা মো. রাসেল আলমকে অস্ত্রধারী ছাত্রলীগের ক্যাডাররা গুলি করে ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে পা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ২০১৪ সালের ১৬ জুন ক্যাম্পাসে ঘটনাটি ঘটে। শিবিরের কয়েকজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে এসেছে জানতে পেরে রাবির শহিদুল্লাহ কলা ভবন ঘেরাও করে ২৫ থেকে ৩০ জনের ছাত্রলীগের তৎকালীন ক্যাডার। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শিবিরের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করে ।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি, সহিংসতা এবং তার জবাবে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাতে তাদের মারধরের ঘটনার প্রেক্ষাপটেই মূলত এবি জুবায়ের তাঁর ফেসবুকে এই তীব্র প্রতিবাদী বক্তব্যটি তুলে ধরেন।







