বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনকে প্রত্যক্ষভাবে গাইড করতে জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যার দায়িত্বে ছিলেন তিনি নিজে। সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন আয়োজিত ঢাকা বিভাগীয় মুফাসসির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান নির্বাচনী পরিসংখ্যান ও দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জামায়াত এখন তৃতীয় সর্বোচ্চ বিরোধী দল। এবার জামায়াত এককভাবে ৩২ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যা ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার প্রথমবার সরকার গঠনের সময় প্রাপ্ত ভোটের (৩১%) চেয়েও বেশি। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ইতিহাসে পরপর দুইবার একই দলের ক্ষমতায় আসার নজির নেই, ফলে ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় থাকলে আগামী দিনে দেশের মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে সরকার গঠনে সমর্থন দেবে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জামায়াতের এই জ্যেষ্ঠ নেতা দাবি করেন, নির্বাচনে বিপুল ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হলেও মানুষ দাঁড়িপাল্লা ও ১১ দলীয় জোটের পক্ষে রায় দিয়েছিল। তবে ভোট গণনা শেষে তা ঘরে তোলার মতো প্রাতিষ্ঠানিক ও কৌশলগত সামর্থ্যের অভাবকে দলের দুর্বলতা হিসেবে স্বীকার করে তিনি বলেন, আল্লাহ তাদের আগামীতে সরকার গঠনে প্রস্তুতি আরেকটু মজবুত করার সুযোগ দিয়েছেন। এছাড়া গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের পতন ও শেখ হাসিনার এভাবে দেশত্যাগ মানুষের চিন্তার বাইরে ছিল এবং তা আল্লাহর বিশেষ ইশারায় ঘটেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম ওয়ায়েজীন ও আলেমদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কওমি, আলিয়া, সুন্নি বা আহলে হাদিস নিয়ে বিভেদ উসকে না দিয়ে আলেমদের ঐক্যের পরিচয় দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় আইন ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে এমন বক্তব্য দেওয়া উচিত, যা উস্কানি বা মুসলিম সমাজে বিভক্তি সৃষ্টি না করে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।







