ভারতের আসাম রাজ্যে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। রাজ্যের ‘ডিজাস্টার রিপোর্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (ডিআরআইএমএস)-এর দেয়া তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় শিবসাগর জেলায় নতুন করে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে এ বছরের বন্যায় রাজ্যে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ জনে।
আসামের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে শিবসাগর, জোড়হাট, চরাইদেও, গোলাঘাট, নগাঁও, কামরূপ ও শোনিতপুর অন্যতম। একদিকে দুর্গত এলাকায় জোরকদমে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার।
বর্তমানে রাজ্যের অন্তত ৬২২টি গ্রামের মানুষ বন্যার তাণ্ডবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেই সঙ্গে ৪৫,৩৪১.৯৮ হেক্টর ফসলি জমি এখনও পানির নিচে তলিয়ে আছে।
শিবসাগর জেলার নাজিরা বিধানসভা এলাকার নেপালিকুটি গ্রামটি বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি। স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, গত ১৯ জুলাই পার্শ্ববর্তী দিখৌ নদীর পানি গ্রামে প্রবেশ করার পর অসংখ্য পরিবার ভিটেমাটি হারায়। পানির তীব্র স্রোতে খাদ্যশস্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পাশাপাশি ভেসে গেছে গবাদি পশুও।
বার্তা সংস্থা এএনআইকে স্থানীয় বাসিন্দা কৃষ্ণ শর্মা বলেন, “বন্যায় আমাদের গ্রামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেকের ঘরবাড়ি ভেসে গেছে, গবাদি পশু নিখোঁজ হয়েছে। অসংখ্য পরিবার একই সাথে খাবার, আশ্রয় এবং জীবিকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে পানি কিছুটা নামতে শুরু করলেও কৃষিজমিগুলোর মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গত পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছেন।







