মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নামক কোনো রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব ছিল না, তাই দল হিসেবে বিএনপির পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ করার দাবি করার সুযোগ নেই বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন দলটিরই নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। গত রবিবার (২৬ জুলাই) জিটিভিতে প্রচারিত ‘চেনা মানুষের আপন ভুবন’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেন, তৎকালীন সময়ে জিয়াউর রহমান কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তিনি কেবল একজন মেজর ছিলেন। তবে মেজর হিসেবে তিনি এক অনন্য ভূমিকা রাখেন এবং প্রথমে নিজের নামে পরবর্তীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামরিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। বর্তমানে যারা বিএনপি করেন, তাঁদের অনেকে ব্যক্তিগতভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও দলগতভাবে দল হিসেবে বিএনপির মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার অবকাশ ছিল না।
মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর অবদান প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে একক জয়লাভের পর তারাই বিপুল সংখ্যায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তাই দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধে একক অবদান দাবি করার ভিত্তি নেই। এ সময় তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে নিজের আন্তরিক প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করেন।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ তুলে ধরে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই দেশে চূড়ান্ত রাজনৈতিক লড়াইটি হবে মুক্তিযুদ্ধের সঠিকতা ও একাত্তরের আদর্শকে কেন্দ্র করে। একাত্তর ভুল ছিল—এমন মতাদর্শে বিশ্বাসী গোষ্ঠী জামায়াত ও উগ্রবাদীদের নেতৃত্বে একপক্ষে দাঁড়ালেও তারা পরাজয় বরণ করবে। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তিশেলই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।







