পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের একটি ভিডিও ও একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশ পাওয়া ছবি, ভিডিও এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ভিডিওতে থাকা নারী ফরহাদ হোসেন আজাদকে ‘ভাইয়া’ এবং প্রতিমন্ত্রী তাকে ‘দিদি’ বলে সম্বোধন করতেন।
ছড়িয়ে পড়া সংবাদ নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর দলীয় সমর্থকরা বিষয়টিকে এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি রাজনৈতিক অপপ্রচার বলে দাবি করলেও ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য ডিসেন্ট’ নিজস্ব অনুসন্ধানে বিষয়টিকে সম্পূর্ণ খাঁটি এবং কৃত্রিমতাহীন হিসেবে নিশ্চিত করেছে।
গবেষণা ও ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় ও ঢাকা থেকে প্রাপ্ত মূল ফাইল ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের উচ্চ রেজল্যুশনের ডিজিটাল কপি একাধিক বিশ্বস্ত এআই-শনাক্তকরণ টুলে পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষায় প্রকাশিত কনটেন্টগুলোতে কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত বিকৃতি বা এআই জেনারেটেড উপাদানের প্রমাণ মেলেনি।
সংগৃহীত তথ্যানুসারে, ওই নারী পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার অধিবাসী এবং ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর থেকেই তাঁর পড়াশোনার সমস্ত দায়িত্ব পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নিজে নিয়েছিলেন। তিনি প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত থাকার পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক নানা বিষয়েও দেখা করেছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই প্রতিমন্ত্রীর নিজ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানবেববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন দেখা গেছে। স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দলীয় পদ হারানোর ভয় এবং শারীরিক ও মানসিক শাস্তির হুমকির মুখে পড়ে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের বাধ্য হয়ে এসব প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলে কমিটি ভেঙে দেওয়া থেকে শুরু করে গায়ে হাত তোলার ঘটনা ঘটে বলেও দলটির স্থানীয় শাখাগুলোতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।







