মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে তাঁর গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর মধ্যস্থতায় হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা বা কাঠামোগত চুক্তি অর্জিত হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার সামরিকীকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করে সেখানে অরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ বা টেকনোক্র্যাটদের সমন্বয়ে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে। পরবর্তীতে একটি নির্ধারিত সময়সূচি ও ধাপ মেনে অঞ্চলটি থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলে তীব্র সংশয় রয়েছে। তাঁদের মতে, গাজায় পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করার আগে যেকোনো ধরনের সেনা প্রত্যাহার ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার চাহিদা পূরণ করবে না।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্বে নির্ধারিত চুক্তির কাঠামোর বাইরে ইসরায়েলের কাছে নতুন কোনো দাবি করা হয়নি এবং তারা আশা করছেন যে ইসরায়েল চুক্তিটির শর্তাবলী মেনে চলবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন যে, ইসরায়েল এই চুক্তি প্রত্যাখান করলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত “হতাশ হবেন”।
আমেরিকান কর্মকর্তাদের দাবি, শুরু থেকেই ইরান এই চুক্তিতে সই না করার জন্য হামাসের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল, তবে মধ্যস্থতাকারীরা সেই প্রভাব কাটিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।
‘বোর্ড অব পিস’-এর পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তর এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হবে। তবে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
অন্যদিকে, হামাসের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ চুক্তি অনুমোদনের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, অস্ত্র হস্তান্তর ও টেকনিক্যাল সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে ইসরায়েল সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছে সংগঠনটি।
এমন এক সময়ে এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ সামনে এলো যখন গাজায় যুদ্ধ পরিস্থিতি পুরোপুরি থামেনি। গত অক্টোবরের প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক হামলায় ১,২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
এমনকি গত বৃহস্পতিবারের ইসরায়েলি হামলায় অন্তত দুই শিশুসহ মোট ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বর্তমানে চুক্তির বেশ কয়েকটি সংবেদনশীল ধারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এবং হামাসের তরফ থেকেও পূর্ণাঙ্গ অনুমোদনের আনুষ্ঠানিক বার্তা আসা বাকি রয়েছে।







