ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে পর্দার আড়ালে যোগাযোগ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। দেশটির দাবি, কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে তারা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় এ প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাশিয়ায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ফয়সাল নিয়াজ তিরমিজি রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।
তিরমিজি বলেন, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি সংঘাত নয়, বরং সংলাপ ও কূটনীতিকে গুরুত্ব দেয়। তিনি বলেন, “পাকিস্তান কূটনীতিতে বিশ্বাস করে। আমরা যা বলি, বাস্তবেও তা-ই করি। এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সব আঞ্চলিক অংশীদারের সঙ্গে আমরা কাজ করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট সমাধানে বাইরের শক্তির পাশাপাশি অঞ্চলভুক্ত দেশগুলোর সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যেসব দেশের স্বার্থ সরাসরি এ অঞ্চলের সঙ্গে জড়িত, তারাই টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পাকিস্তান সবসময় আলোচনা ও রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকট নিরসনে ইসলামাবাদ অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। দেশটির কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং পরবর্তীতে জুন মাসে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়।
তবে এসব উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা কার্যকরের পরও দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস পুরোপুরি দূর হয়নি। জুলাই মাসে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘাত ও বৈরিতা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি, পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বার্থকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। এ অবস্থায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগ সফল হলে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নেই নয়, পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: আল আরাবিয়া







