ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আমরা অপেক্ষা করে আছি, আসেন দেশে। দেশে আসেন, দেখা হবে ইনশাআল্লাহ রাজপথে।’ বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’-এর অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার এবং ভুলত্রুটি হলে তা শুধরে দেওয়ার আহ্বান জানান। আওয়ামী লীগের শাসনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এত অন্যায়, অবিচার, খুন, গুম, মানি লন্ডারিং ও আয়নাঘরের মতো নিপীড়ন চালানোর পরও দলটির কোনো অনুশোচনা বা লজ্জাবোধ নেই; উপরন্তু তারা প্রকাশ্যে ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা বলছে। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদান রাখা এই বীর বিক্রম আরও বলেন, ২৭ বছর বয়সে তিনি দেশের জন্য যুদ্ধ করেছিলেন, আর এখন ৮২ বছর বয়সেও জনগণের শাসন ও গণতন্ত্র চিরস্থায়ী করতে প্রয়োজনে আরেকটি লড়াই করবেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের নিয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, এই সরকারের সবচেয়ে বড় ও পবিত্র দায়িত্ব হলো শহীদ পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ এবং আহতদের পাশে দাঁড়ানো। দরিদ্র দেশের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে তাঁদের কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি জানান, হয়তো তাঁদের আত্মত্যাগের পূর্ণ মূল্যায়ন অর্থনৈতিকভাবে সম্ভব নয়, তবে রাষ্ট্র তাঁদের সর্বোচ্চ সম্মান দেবে। পাশাপাশি নির্বাচন ও গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ৭১ এবং ২৪-এর সংগ্রাম দুটিই ছিল গণতন্ত্রের জন্য। জাতীয় স্বার্থে এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত ডকুমেন্টারিতে অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবি না থাকাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা ও এনসিপির ওয়াকআউট প্রসঙ্গে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আয়োজকদের ভুল স্বীকার ও ক্ষমা চাওয়ার পরও জাতীয় অনুষ্ঠান থেকে ওয়াকআউট করা বা ‘ভুয়া ভুয়া’ চিৎকার করা মোটেও কাম্য ছিল না। বিশেষ করে আমন্ত্রিত বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে এমন হট্টগোলে চরম লজ্জা ও ব্যথার কথা প্রকাশ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ জাতীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া নিয়ে গভীর হতাশা ব্যক্ত করেন।







