নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম সংকটে পড়েছেন নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, সবজি, মাছ, ডিম ও মুরগিসহ দৈনন্দিন ব্যবহারের অধিকাংশ পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। একই আয়ে আগের তুলনায় অনেক কম পণ্য কিনতে পারছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম এখনও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশাচালক, শ্রমিক ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্যরা ব্যয় কমাতে খাদ্যতালিকা থেকে একের পর এক পণ্য বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বেড়েছে। তবে গরুর মাংসের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।
বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮০০ টাকায়। ডিমের ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহে ১০ টাকা বেড়েছে। সোনালি মুরগির দাম ৩২০–৩৪০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০–৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি রয়েছে।
মাছের বাজারেও দাম বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের কেজিপ্রতি দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। জীবিত পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, চিংড়ি ৮০০–৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০–৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০–৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া ভেটকি, মৃগেল, বাইম, দেশি কই, পোয়া ও শোল মাছের দামও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি। অন্যদিকে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে হলে অনেক ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি এক হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।
খাসির মাংসের দামও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বর্তমানে প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকায়।বাজারের বিক্রেতাদের দাবি, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আগের মতো সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে না। এতে পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে এবং তার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দ্রুত মূল্য কমার সম্ভাবনা নেই।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর, কারণ তাদের আয়ের বড় অংশই খাদ্য কেনায় ব্যয় হয়। তাই খাদ্যপণ্যের সামান্য মূল্যবৃদ্ধিও তাদের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলে। তারা বাজার তদারকি জোরদার, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমার আভাস থাকলেও খাদ্যপণ্যের উচ্চ মূল্য এখনও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। ফলে বাজারে সামান্য স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মিললেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তার ইতিবাচক প্রভাব এখনো স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়নি।







