অভিজ্ঞতাহীন একটি ভূঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের হাতে উঠতে যাচ্ছে দেশের মেগা প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার কাজ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড’ জাপানি একটি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় অংশীদার হিসেবে ভোলা-বরিশাল ও শরীয়তপুর-চাঁদপুর মেগা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ পেতে যাচ্ছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা (৩.৪৪ বিলিয়ন ডলার)।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তড়িঘড়ি করে ‘স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড’ নামক এই প্রতিষ্ঠানটি গঠন করা হয়। ঢাকা-জাপান যৌথ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্ল্যাটফর্মের বৈঠকে জাপানি প্রতিষ্ঠান ‘মিয়াগাওয়া কেনসেতসু কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’ এই দুটি মেগা সেতু নির্মাণে আগ্রহ দেখায়। এই যৌথ উদ্যোগের দেশীয় অংশীদার (লোকাল পার্টনার) হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলের নতুন এই প্রতিষ্ঠানকে।
অথচ মেগা অবকাঠামো নির্মাণ তো দূরের কথা, অতীতে একটি ছোট কালভার্ট তৈরি কিংবা কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সামলানোর ন্যূনতম অভিজ্ঞতা নেই এই প্রতিষ্ঠানের। অভিযোগ উঠেছে, বাবার রাজনৈতিক ও সরকারি প্রভাব কাজে লাগিয়েই কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই সাঈদ ইব্রাহিম এই বিশাল মেগা প্রজেক্টের লোকাল পার্টনার হওয়ার সুযোগ বাগিয়ে নিয়েছেন। এমনকি চূড়ান্ত কাজ পেতে তিনি সম্প্রতি সরাসরি সেতু সচিবের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।
পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) নীতি অনুযায়ী, এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের বিশাল ব্যয়ভার বহন করবে বাংলাদেশ সরকার, অর্থাৎ সাধারণ জনগণের করের টাকা। জনগণের বিপুল অর্থ জড়িয়ে থাকা এই প্রজেক্টে সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতাহীন একটি সংস্থাকে কেবল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে হওয়ার সুবাদে যুক্ত করার বিষয়টিকে স্পষ্ট ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) ও চরম স্বজনপ্রীতি হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষক ও সচেতন মহল।
উল্লেখ্য, এর আগেও কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদকে ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক বানানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। একের পর এক রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও মেগা প্রজেক্টে মন্ত্রীর ছেলের সরাসরি যুক্ত হওয়ার ঘটনা ক্ষমতার অপব্যবহার ও সুশাসনের প্রশ্নকে আবারও বড় ধরনের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।







