বরগুনার তালতলীতে উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সভাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনী ও পুলিশের পৃথক অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি এয়ারগান ও চার রাউন্ড গুলিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের সংঘাত এড়াতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ উভয় পক্ষের ডাকা বিক্ষোভ সমাবেশ বাতিল ঘোষণা করেছে। বর্তমানে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরজুড়ে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
বুধবার দুপুরে ছোটবগী ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ পাঁচ বহিরাগত যুবককে আটক করে। পরবর্তীতে বিকেলে যৌথ বাহিনী আরেকটি অভিযান চালিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুনের স্বজনের বসতবাড়ি থেকে একটি এয়ারগান উদ্ধার করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ এ পদক্ষেপের পর পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ আগস্ট বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ককে নিয়ে সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের দেওয়া মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং উভয় পক্ষই বুধবার একই সময়ে পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ডাক দিলে পুরো শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার বিষয়ে মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক দাবি করেন, তাঁদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ গ্রুপ ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনেছিল, যা পুলিশের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েছে। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মাহবুবুল আলম মামুন জানান, প্রশাসনের নির্দেশ মেনে তাঁরা কর্মসূচি বাতিল করেছেন এবং অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ের সাথে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।
তালতলী থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সভা-সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্রের বিষয়ে যৌথ বাহিনীর অনুসন্ধান ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







