হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কেটে উজার করা ও বিক্রির অভিযোগে যৌথভাবে বিএনপি, সহযোগী সংগঠন এবং নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে বন বিভাগ। অভিযোগ উঠেছে, দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বিরোধী বিএনপি ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিলেমিশে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মূল্যবান গাছ সাবাড় করে আসছিল।
মঙ্গলবার চুনারুঘাট থানায় সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের কর্মকর্তা মোবারক হোসেন ১৯২৭ সালের বন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ২০ জনের নাম উল্লেখসহ প্রথম মামলাটি দায়ের করেন। এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত বনাঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ গাছ কেটে পাচার করা হয়, যার পেছনে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রধান আসামি করা হয়েছে চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ মিয়াকে।
রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, একই মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে বিএনপি, যুবদল ও শ্রমিক দলের একাধিক শীর্ষ স্থানীয় নেতার পাশাপাশি মিরাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগও যুক্ত রয়েছেন। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও রাজপথের বিরোধীদল বিএনপি নেতাদের এমন ‘যৌথ সিন্ডিকেট’ বানিয়ে বনের সম্পদ লুটের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
একই দিনে রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য থেকে একইভাবে গাছ কাটা ও চোরাচালানের অভিযোগে বন কর্মকর্তা এইচ এম এরশাদ বাদী হয়ে আরও ৪২ জনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেন। সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম এবং চুনারুঘাট থানার ওসি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে এ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







