বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের ১৮৫ দিনের মাথায় প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় সম্প্রসারণ ও রদবদল করা হয়েছে। গত শুক্রবার বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে শপথ নেন। একই দিনে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বেও পরিবর্তন আনা হয়।
মন্ত্রিসভার এই পরিবর্তনের পর থেকেই সরকার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই মন্ত্রণালয়টিতে নতুন মন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় আসে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নাম এ ক্ষেত্রে সামনে আসে।
বিমান মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া আফরোজা খানম রিতা ও এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন এবং একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। অন্যদিকে আফরোজা খানম রিতাকে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়
সরকারের শুরু থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে নানা আলোচনা ছিল। গত ১ জুন বিএনপি নেতা দীপেন দেওয়ান মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পর পদটি শূন্য হয়। তার পদত্যাগের পর পাহাড়ি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ করে এবং তাদের সম্প্রদায় থেকে মন্ত্রী নিয়োগের দাবি জানায়।
এরই মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী হিসেবে বিএনপি নেতা ও বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীর নাম আলোচনায় আসে। তিনি এর আগে বান্দরবান সদর উপজেলা ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ১৯৯৬ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আগামী সেপ্টেম্বর থেকে তাকে নতুন দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ কারণে আগামী এক বছরে তার বড় একটি সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাটানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
নতুন দায়িত্বকে দেশের জন্য কাজ করার আরও একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, সেটিই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
তথ্য মন্ত্রণালয়ে পার্থ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন এসেছে। জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে নতুন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ। একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন ইয়াসির খান চৌধুরী।
পার্থ ও ইয়াসির খানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাদের পারিবারিকভাবেও সম্পর্ক পুরোনো। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তথ্য ও গণমাধ্যম খাতে সংস্কার এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তারা একসঙ্গে কাজ করতে চান।
ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, তারা সবাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দলগতভাবে কাজ করছেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে একসঙ্গে কাজ করে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা পূরণের আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ে নতুন প্রতিমন্ত্রী
মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। এ মন্ত্রণালয়ে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
তবে লিংকনের নিয়োগ নিয়ে ইতোমধ্যে আপত্তি জানিয়েছে কয়েকটি সংগঠন। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব তার নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি লিংকনের নিয়োগ বাতিল করে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জুনায়েদ আল হাবিবের দাবি, সরকারের এ সিদ্ধান্ত দেশের মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আলেম-ওলামাদের দাবি ও পরামর্শ উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে এর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব পড়তে পারে।







