মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে নতুন এলএনজিভর্তি কার্গো নোঙর করার পর তিন দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। অপর ভাসমান টার্মিনাল সামিট এলএনজি আগে থেকেই পূর্ণ সক্ষমতায় চালু ছিল। দুটি টার্মিনালই সচল হওয়ায় দেশজুড়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে লোডশেডিং কমে আসার পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও শিল্প-কারখানার গ্যাসলাইনে চাপ বেড়ে স্বস্তি ফিরেছে।
গতকাল আন্তর্জাতিক জ্বালানি জায়ান্ট বিপি সিঙ্গাপুরের সরবরাহ করা এলএনজিভর্তি কার্গো জাহাজটি নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই মহেশখালী টার্মিনালে পৌঁছে যায়। ফলে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে দুপুর থেকেই পুনরায় গ্যাস সরবরাহ চালু সম্ভব হয়। প্রাথমিক সরবরাহ ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও রাতের মধ্যে তা পূর্ণ সক্ষমতা অর্থাৎ ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে গিয়ে পৌঁছানোর কথা জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গ্যাসের চাপ বাড়ায় সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘদিনের গ্রাহক ভোগান্তি অনেকটাই কমে এসেছে। সাধারণ পাম্পগুলোতে যানবাহন দ্রুত গ্যাস নিতে পেরেছে এবং একেকটি অটোরিকশায় আগের তুলনায় তিন গুণ পর্যন্ত গ্যাস দেওয়া সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর বাসাবাড়ির রান্নাঘরের চুলায় গ্যাসলাইনের প্রেশার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে, যা গ্রাহকদের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যকার ঘাটতি অনেকটা কমে এসেছে। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ইন্ডাস্ট্রিয়াল চাহিদা কম থাকার পাশাপাশি পিক আওয়ারে সর্বোচ্চ উৎপাদন হওয়ায় ঢাকা ও অন্যান্য প্রধান শহরে বড় কোনো লোডশেডিং হয়নি। তবে গ্রামীণ এলাকার কিছু জায়গায় সামান্য সময়ের লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৯ সালের মধ্যে পায়রা, মোংলা এবং হিরণ পয়েন্টে নতুন আরো তিনটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ আরও স্বাভাবিক করতে সরকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে বাঁচানো গ্যাস সরাসরি কারখানায় ডাইভার্ট করার কৌশল গ্রহণ করছে।







