ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। একই রায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ জন আসামির মধ্যে ৪ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ১০ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেছিলেন নুসরাতের মা। ওই মামলায় অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার হওয়ার পর নুসরাতকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় ৬ এপ্রিল পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে তাকে চক্রান্ত করে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান তিনি।
হত্যাকাণ্ডের পর নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিলে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আসামিদের সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বিচারিক আদালতের সেই রায় অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পাঠানো হয় এবং আসামিরাও পৃথক আপিল করেন।
প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করার পর গত ২৮ জুলাই থেকে নুসরাত হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয়। মোট ১৭ কার্যদিবস শুনানি শেষে গত ২০ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। অবশেষে দীর্ঘ শুনানি ও আপিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উচ্চ আদালত এই রায় প্রদান করেন।







