একদিকে বিরোধী দলের নানা কর্মসূচি ও উত্তপ্ত স্লোগানে রাজপথ যেমন সরগরম, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন কিছু সাংবাদিক, উপস্থাপক এবং বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ। অভিযোগ রয়েছে, দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে তাদের অনেকেই বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সমালোচনা করছেন এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে কটাক্ষ করে ফ্যাসিস্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় যারা কাজ করছেন, তাদের অন্যতম হিসেবে আলোচনায় এসেছে গোলাম মাওলা রনির নাম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সরাসরি কটাক্ষ করা ও রাজনৈতিক উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একইভাবে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না, আনিস আলমগীর এবং উপস্থাপিকা নবনিতা চৌধুরীসহ একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন সময় ফ্যাসিবাদের পক্ষে সাফাই গাওয়া এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক নেতাদের নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছেন।
অন্যদিকে, বিনোদন জগতের মেহের আফরোজ শাওন, মাহিয়া মাহি, পিয়া জান্নাতুল ও শামীমা তুষ্টির মতো তারকাদের ভূমিকা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন অপ্রীতিকর মন্তব্য ও ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে, যাদের অনেকে দেশে ও প্রবাসে বসে সরকারের বিরুদ্ধে নানামুখী প্রচার চালাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিরোধী দলের সমালোচনায় মুখর থাকলেও এই চিহ্নিত ফ্যাসিবাদের এজেন্ডাধারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে এই অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রকারীদের দ্রুত দমন করা জরুরি; অন্যথায় এই রাজনৈতিক বিভাজন ও সংঘাতের আগুন আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।







