রাজধানীর প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত ও ইলেকট্রিক অটোরিকশা (ই-রিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে অভ্যন্তরীণ সড়কে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে চলাচলের জন্য সর্বোচ্চ চার যাত্রী বহনকারী অটোরিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। কোনোভাবেই ছয় যাত্রী বহনকারী ই-রিকশা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স পাবে না।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের জাতীয় নীতিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব শীঘ্রই আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন হলে এটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে। নীতিমালা কার্যকর হলেই ইলেকট্রিক রিকশাগুলো একটি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার মধ্যে চলে আসবে।
নতুন নীতিমালায় ই-রিকশার নিরাপত্তার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা পলিটেকনিক্যালের অটোমোবাইল শাখার অনুমোদিত নকশা এবং ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো যান নিবন্ধন পাবে না। এ ছাড়া যত্রতত্র অটোরিকশা তৈরি বন্ধে নির্মাণকারী কারখানাগুলোকেও সুনির্দিষ্ট নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।
ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে রিকশা চলাচলের জন্য মোট ৮টি জোন (উত্তরে ৪টি ও দক্ষিণে ৪টি) নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি জোনের রিকশার রং ভিন্ন হবে এবং এক জোনের নিবন্ধিত রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করতে পারবে না। যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহারের অংশ হিসেবে এতে জিও-ফেন্সিং ব্যবস্থাও যুক্ত থাকবে।
চার্জিং পয়েন্ট ও গ্যারেজ পরিচালনার ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম আনা হচ্ছে। অটোরিকশা চার্জিং সেন্টারগুলোকে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিবেশ রক্ষায় পর্যায়ক্রমে এসব চার্জিং পয়েন্টে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে।







