ঢাকার দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকিটের সিরিয়াল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে এক সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শ্রমিক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় আনসারের এক সদস্যকেও গালাগাল করা হয়, যা উপস্থিত রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করে।
মারধরে আহত সাংবাদিকের নাম নুরুল ইসলাম (তানিম), যিনি দৈনিক কালবেলার দোহার প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আবদুর রাজ্জাক, যিনি দোহার পৌর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নারী রোগীদের সারিতে রাজ্জাকের নেতৃত্বে বহিরাগত কয়েকজন ঢুকে পড়ে এবং লাইন ডিঙিয়ে আগে টিকিট নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা আপত্তি জানালে শ্রমিক দল নেতা রাজ্জাক তাদের গালিগালাজ শুরু করেন। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক নুরুল ইসলাম ঘটনাটির খোঁজখবর নিতে গেলে রাজ্জাক ক্ষিপ্ত হয়ে ‘ওই সাংবাদিক তোর বাড়ি কই’ বলে তাঁর ওপর হামলা চালান এবং হাতে থাকা ব্যাগ ও কিলঘুষি মেরে তাঁকে আঘাত করেন।
ঘটনার পর আহত অবস্থায় নুরুল ইসলাম দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে তিনি জানান, সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও রাজ্জাক ও উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আবদুল আউয়াল মারধর থামাননি। পরে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আবদুর রাজ্জাকের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেলেও, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আবদুল আউয়াল জানান, তিনি কাউকে মারধর করেননি বরং রাজ্জাক উত্তেজিত হলে তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে দোহার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ এ ঘটনাকে ‘চরম অন্যায়’ আখ্যা দিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন।
ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী সাংবাদিক নুরুল ইসলাম দোহার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি গ্রহণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক।







