আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সুযোগ শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘এখন আমরা তাকে ধরে আনতে চাই। তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে।’
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর এবং ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সঙ্গে কোনো শর্ত যুক্ত করা হলে বিষয়টি সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, শেখ হাসিনা আপনি আসবেন না, আপনাকে আমরা ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি পলাতক আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।’
ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার আপিল করার সুযোগের সময়ও পেরিয়ে গেছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর জন্য মৃত্যুদণ্ডই অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, সরকার তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়।
সম্প্রতি শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলন করার বিষয়েও সরকারের কঠোর প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেন ডা. জাহেদ। তিনি বলেন, বর্তমানে তিনি ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন, যা সরকারের কাছে অপ্রত্যাশিত।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত শেখ হাসিনা যাতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারত সরকার পদক্ষেপ নেবে। তাঁর মতে, ভারতে পালিয়ে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তিনি এসব সুযোগ ভোগ করতে পারেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন।
ভারতের অবস্থানের সমালোচনা করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারত চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে একটি পদক্ষেপ নিতে পারত—শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া বন্ধ করা। কিন্তু ভারত কেন তা করছে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং বাংলাদেশ তাঁকে ইতিবাচকভাবে দেখেছে। তবে শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশের সংবেদনশীলতা এবং তাঁর গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের মানুষের ক্ষোভের বিষয়টি ভারতের বোঝা উচিত।
দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা সেই সম্পর্ককে আবার নেতিবাচক দিকে নিয়ে যায় বলেও মন্তব্য করেন ডা. জাহেদ।
শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশের দেওয়া প্রতিবাদলিপির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য একটি ‘আস্থার পরিবেশ’ তৈরি করা প্রয়োজন। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সত্যিকার অর্থে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত হতে চায়—এ বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।






