গাজা সিটিতে নতুন শিক্ষাবর্ষে স্কুলে ফেরার প্রথম দিনেই ইসরাইলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ৮ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু ওয়াফা ইউসুফ নাবিল আকিলা। সম্প্রতি পশ্চিম গাজা সিটিতে বাবার সঙ্গে গাড়িতে যাওয়ার সময় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় ওয়াফা ও তার বাবা ইউসুফ নাবিল রাবাহ আকিলা নিহত হন। এ ঘটনায় আরও ছয় ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
হামিদের মোড়ের কাছে গাড়িটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে নীল রঙের স্কুল ইউনিফর্ম পরে ছবি তুলেছিল ওয়াফা। ছবিতে তাকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে থাম্বস-আপ দিতে দেখা যায়। স্কুলে ফেরার আনন্দে নতুন বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে বাবার সঙ্গে বের হয়েছিল সে। হামলার পর বিধ্বস্ত গাড়িটির পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ওয়াফার স্কুলের বই ও শিক্ষাসামগ্রী হৃদয়বিদারক দৃশ্যের জন্ম দেয়।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী প্রথমে জানায়, হামলাটি হামাসের একজন সদস্যকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল এবং ঘটনাটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরে নিহত ওয়াফার বাবা ইউসুফ আকিলাকে হামাসের নুখবা বাহিনীর একটি কোম্পানির কমান্ডার বলে দাবি করে ইসরাইলি বাহিনী। তাদের অভিযোগ, তিনি ইসরাইলি সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন এবং হামাসের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছিলেন। তবে এসব দাবির পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
ওয়াফার মৃত্যু গাজায় শিশুদের শিক্ষাজীবনের ভয়াবহ বিপর্যয়কে আবারও সামনে এনেছে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধে গাজার বিপুলসংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক শিশু এখন তাঁবু, অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ কিংবা বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে পড়াশোনা করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এরই মধ্যে কিছু স্কুল ও বিকল্প শিক্ষা কেন্দ্র চালু হয়েছে।
রোববার গাজার অন্যান্য এলাকাতেও হামলায় শিশু নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর পূর্বদিকে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আশ্রয় নেওয়া সাকিনা স্কুলে ইসরাইলি গোলাবর্ষণে ৭ বছর বয়সী সাদি ঘালিয়াও নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন।
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার দাবি থাকলেও হামলা ও প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওয়াফার মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নতুন বই-খাতা নিয়ে স্কুলে ফেরার আনন্দের সঙ্গে শিশুটির নির্মম মৃত্যুর বৈপরীত্য তুলে ধরে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—যে বয়সে একটি শিশুর স্বপ্ন হওয়ার কথা ছিল শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে, সেই বয়সেই যুদ্ধ তার সেই পথও কেড়ে নিল।





