জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ও পশ্চিমা মিত্রদের কৌশলগত ‘মুওয়াফফাক সালতি’ (আল-আজরাক) বিমানঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার গভীর রাতে চালানো এ হামলায় মার্কিন তৈরি শক্তিশালী ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে অন্তত একাধিক ইরানি ‘খেইবার শেকান’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি ঘাঁটিতে আঘাত হানে। বুধবার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ঘাঁটি সূত্রে জানা যায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত ঠেকাতে একযোগে অন্তত ৭০ থেকে ১০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও সর্বাধুনিক ওই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যারিকেড ভেদ করে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ইরনা’ জানায়, তাদের এই ‘শাস্তিমূলক অভিযানে’ বিমানঘাঁটির মেরামত কেন্দ্র, যুদ্ধবিমান মোতায়েন এলাকা ও বিমান আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমায় অন্তত ১৮টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে পেরেছে।
বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের তেলবাহী জাহাজে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বর্বরোচিত হামলার উপযুক্ত প্রতিশোধ হিসেবেই এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালিত হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরান তাদের নতুন ও আধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘কাসেম বাসির’ দিয়ে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছিল। এর জবাবে মঙ্গলবার মার্কিন বাহিনী পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করে দেয়। ফলে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তেহরান জর্ডানের এই ঘাঁটিতে আঘাত হানে, যা এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় ইরানের দ্বিতীয় বড় হামলা।
আম্মান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি রাজকীয় জর্ডানি বিমান বাহিনীর হলেও তা দীর্ঘ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা মিত্ররা কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। বিমানঘাঁটিতে হামলার পাশাপাশি বাহরাইন ও কুয়েত উপকূলের কাছে থাকা পশ্চিমা মিত্রদের তেলবাহী ট্যাংকারগুলোতেও হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। আইআরজিসি এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই এলাকার সমুদ্রে থাকা ট্যাংকারগুলোর নাবিক ও কর্মীদের প্রাণ রক্ষার্থে অবিলম্বে জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি জারি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই প্রত্যক্ষ সংঘাত ৬ মাসে গড়ালেও সামরিক ও অর্থনৈতিক এই যুদ্ধ এক তীব্র অচলাবস্থায় রূপ নিয়েছে। ইরান কৌশলগত বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের প্রধান সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের শক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যার পাল্টা জবাবে ওয়াশিংটনও ইরানের বন্দরসমূহ অবরুদ্ধ করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়া জারি রেখেছে। সব মিলিয়ে জর্ডানের সাম্প্রতিক এই সরাসরি আঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন ও ভয়াবহ মাত্রা গ্রহণ করেছে।







